House #60, Road #8, Block #C, Niketon, Gulshan-1, Dhaka 1212 Thu, Fri, Sat (10:00AM - 1:00PM), Fri, Sun, Tue, Thu (5:00PM - 9:00PM)
Contact
Hotline
+8801310519046
Dr. Tanjima Tajreen

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

November 24, 2025

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা চাপ নিয়ন্ত্রণ হলো দৈনন্দিন জীবনের মানসিক ও শারীরিক চাপকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা করার প্রক্রিয়া। আধুনিক জীবনে কাজের চাপ, সম্পর্কজনিত সমস্যা, আর্থিক উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত প্রত্যাশা—সবকিছু মিলেই স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে। সঠিকভাবে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও বজায় থাকে। নিচে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো—

১. শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্ট্রেস কমানোর অন্যতম সহজ এবং কার্যকর উপায়। ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে শরীরের টেনশন কমে এবং মন শান্ত হয়।

২. মননশীলতা ও ধ্যান

মাইন্ডফুলনেস, ধ্যান বা যোগব্যায়াম মনকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনে, ফলে অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা কমে যায়। প্রতিদিন কয়েক মিনিট ধ্যান করলে মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ে।

৩. ব্যায়াম ও শারীরিক কার্যকলাপ

নিয়মিত ব্যায়াম এন্ডোরফিন বাড়ায়, যা প্রাকৃতিকভাবে মুড উন্নত করে। হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম—যেকোনো ধরনের শারীরিক কাজ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

৪. সময় ব্যবস্থাপনা

অনেক সময় অসম্পূর্ণ কাজের চাপ বা দায়িত্বের ভারে স্ট্রেস বাড়ে। কাজের তালিকা তৈরি করা, অগ্রাধিকার ঠিক করা ও সময়মতো কাজ শেষ করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৫. স্বাস্থ্যকর ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস

পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্য শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং মনকে শান্ত করে। ক্যাফেইন, অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ঘুমের অনিয়ম স্ট্রেস বাড়াতে পারে।

৬. সামাজিক সমর্থন

বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা সহকর্মীর সাথে অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া স্ট্রেস কমানোর একটি শক্তিশালী উপায়। কখনো কখনো কথা বললেই চাপ অনেকটা হালকা লাগে।

৭. নেতিবাচক চিন্তা নিয়ন্ত্রণ

স্ট্রেসের বড় অংশই আসে নেতিবাচক চিন্তা বা অপ্রয়োজনীয় ভয়ে। নিজেকে ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করা, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা এবং অযৌক্তিক ভয় চ্যালেঞ্জ করা মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

৮. যথাসম্ভব বিরতি ও বিশ্রাম

ব্যস্ততার মাঝেও ছোট ছোট বিরতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিট রিল্যাক্সেশন করলে মন সতেজ হয়।

৯. নিজের জন্য সময় রাখা

শখের কাজ করা, বই পড়া, সঙ্গীত শোনা বা যেকোনো আনন্দদায়ক কার্যকলাপে সময় দিলে মন ভালো থাকে এবং স্ট্রেস কমে যায়।

তবুও যদি মনে হয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, অনুগ্রহ করে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট বা সাইকোথেরাপিস্ট এর সঙ্গে কথা বলুন।
আপনি একা নন—সাহায্য সবসময়ই পাওয়া যায়।
Back to Blog